
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে এলেই কোরবানির পশু কেনা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। গরু, ছাগল, ভেড়া কিংবা উট কোন পশু কোরবানির জন্য উপযুক্ত, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে পশুর বয়স ঠিক আছে কি না, সেটি কোরবানি সহিহ হওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
ইসলামী শরিয়তে প্রতিটি পশুর জন্য নির্দিষ্ট বয়স নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সেই বয়স পূর্ণ না হলে কোরবানি আদায় হবে না।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, কোরবানির পশু অবশ্যই সুস্থ, ত্রুটিমুক্ত এবং নির্ধারিত বয়সের হতে হবে। পশুর বয়স নির্ধারণে সাধারণত দাঁত দেখে ধারণা নেওয়া হয়। তবে অনেক সময় ক্রেতারা না বুঝে কম বয়সী পশু কিনে ফেলেন। তাই কোরবানির আগে বয়স সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।
ওলামায় কিরামের মতে, উট, গরু, মহিষ, ছাগল, দুম্বা, ভেড়া। এই ছয়টি প্রাণী দিয়ে কোরবানি করা বৈধ।
কোন পশুর বয়স কত হতে হবে?
গরু ও মহিষ
গরু কিংবা মহিষের বয়স কমপক্ষে ২ বছর পূর্ণ হতে হবে এবং তৃতীয় বছরে পদার্পণ করতে হবে। দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে এসব পশু কোরবানির উপযুক্ত নয়।
ছাগল ও ভেড়া
ছাগলের বয়স কমপক্ষে ১ বছর পূর্ণ হতে হবে। তবে ভেড়ার ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় রয়েছে। যদি ৬ মাস বয়সী ভেড়া দেখতে এক বছরের মতো বড় ও মোটাতাজা হয়, তাহলে তা কোরবানি করা জায়েজ।
উট
উটের বয়স কমপক্ষে ৫ বছর পূর্ণ হতে হবে এবং ষষ্ঠ বছরে পড়তে হবে।
যেসব পশু কোরবানির জন্য অনুপযুক্ত
শুধু বয়স হলেই হবে না, পশু সুস্থ ও ত্রুটিমুক্ত হওয়াও জরুরি। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, এক চোখ অন্ধ পশু, অত্যন্ত দুর্বল বা রোগাক্রান্ত পশু, খোঁড়া পশু, কান বা লেজের বড় অংশ কাটা পশু, এত বেশি অসুস্থ পশু, যা স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে না এসব পশু কোরবানির জন্য উপযুক্ত নয়।
দাঁত দেখে বয়স চেনার উপায়
অনেক ক্রেতা পশুর প্রকৃত বয়স বুঝতে না পারায় প্রতারণার শিকার হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, গরুর সামনের নিচের দুটি স্থায়ী দাঁত উঠলে সাধারণত তার বয়স দুই বছর পূর্ণ হয়েছে বলে ধরা হয়। ছাগলের ক্ষেত্রেও স্থায়ী দাঁত দেখে বয়স সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; এটি ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই শরিয়তের বিধান মেনে সঠিক বয়সের ও সুস্থ পশু নির্বাচন করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।
মন্তব্য করুন