আইন ভেঙে খালি কনটেইনার বাইরে পাঠাতে চায় চট্টগ্রাম।
CTG voice
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ২৪
এবার বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডের পাশাপাশি অফডকগুলো থেকেও খালি কনটেইনার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে খালি কনটেইনারগুলো শিপিং এজেন্ট ও মেইন লাইন অপারেটরদের তত্ত্বাবধানে বন্দরের ইয়ার্ড ও অফডকের বাইরে সংরক্ষণের অনুমতি দিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠিও দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
কাস্টমস বলছে, খালি কনটেইনারগুলোও বন্ডেড পণ্য হিসেবে বিবেচিত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতি অনুযায়ী এই কনটেইনারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এখানে ব্যত্যয় ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্ষুণ্ণ হবে দেশের ভাবমূর্তি।
বন্দর সূত্র জানায়, গত ২৬ জুলাই এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, বন্দরে সব আমদানি করা এলসিএল (লেস দ্যান কনটেইনার লোড) পণ্য আনস্টাফিংয়ের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি প্রায় ৭০ শতাংশ এফসিএল (ফুল কনটেইনার লোড) কনটেইনারও পণ্য খালাসের জন্য খোলা হয়। ফলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক খালি কনটেইনার তৈরি হচ্ছে। এসব খালি কনটেইনার জাহাজে রপ্তানি বা ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) পাঠানোর অপেক্ষায় বন্দরের ভেতরেই পড়ে থাকে। কিন্তু প্রতিদিন যত কনটেইনার খালি হচ্ছে, তার তুলনায় অনেক কমসংখ্যক কনটেইনার বন্দর থেকে সরানো সম্ভব হচ্ছে। এতে বন্দরের ভেতরে খালি কনটেইনারের স্তূপ তৈরি হচ্ছে। এছাড়া আমদানিকারকরা পণ্য খালাস করার পর এফসিএল কনটেইনারগুলো বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতেও জমা করছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, খালি কনটেইনার নন বন্ডেড এলাকায় সংরক্ষণের ব্যাপারে বিদ্যমান বিধিনিষেধ থাকায় বন্দরের ভেতরে জট বাড়াচ্ছে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছে। বিষয়টি প্রথম ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর এনবিআরকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এমনকি এনবিআর কিংবা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, সে বিষয়েও বন্দর কর্তৃপক্ষ অবগত নয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশের বন্দরে নন বন্ডেড এলাকায় খালি কনটেইনার রাখার ব্যবস্থা আছে। সেখানে শিপিং এজেন্ট ও এমএলওরা বন্ড সুবিধা ছাড়াই নিজেদের ব্যবস্থাপনায় যেকোনো উপযুক্ত স্থানে খালি কনটেইনার সংরক্ষণ করতে পারে। বাংলাদেশে এ ব্যবস্থা চালু করা হলে বন্দর ও ডিপোগুলোর ওপর চাপ কমবে এতে বন্দরের কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে।
মন্তব্য করুন