
দরজির মেয়ের বিশ্বজয়: পাকিস্তানে ১৭টি স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস গড়লেন এই মেডিক্যাল শিক্ষার্থী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেশন টুডে
অভাব আর কঠোর পরিশ্রমের গল্প অনেক সময় রূপকথাকেও হার মানায়। তেমনই এক অনুপ্রেরণামূলক নজির সৃষ্টি করেছেন পাকিস্তানের খাইবার গার্লস মেডিক্যাল কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী কান্দিল মুর্তজা (Qandeel Murtaza)। একজন সাধারণ দরজির মেয়ে হয়েও নিজের মেধা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে এমবিবিএস পরীক্ষায় রেকর্ডসংখ্যক ১৭টি স্বর্ণপদক জিতে নিয়েছেন তিনি।
পেশোয়ারের খাইবার মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কান্দিলের এই অনন্য কৃতিত্বের খবরটি সামনে আসে। সমাবর্তনে যখন একের পর এক মেডেলের জন্য তার নাম ঘোষণা করা হচ্ছিল, তখন পুরো হলরুমে করতালির জোয়ার বয়ে যায়।
বাবার স্বপ্নপূরণ ও পরিবারের সাফল্য
কান্দিলের বাবা পেশায় একজন দরজি (Tailor Master), যিনি দীর্ঘ বছর ধরে কাপড় সেলাই করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন। সমাবর্তনের মঞ্চে মেয়ের পাশে যখন গর্বিত বাবা দাঁড়িয়ে ছিলেন, সেই মুহূর্তটি উপস্থিত সবার চোখ ভিজিয়ে দেয়।
কান্দিলের বাবা সংবাদমাধ্যমকে জানান, শিক্ষা সবসময়ই তাদের পরিবারের অগ্রাধিকার ছিল। কেবল কান্দিলই নন, তার পরিবারের বাকি সদস্যরাও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত:
তার এক বোন বর্তমানে খাইবার মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা করছেন।
আরেক বোন পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (FIA) গ্রেড-১৭ কর্মকর্তা।
তৃতীয় এক বোন পিএইচডি সম্পন্ন করে ইসলামাবাদে কর্মরত।
একমাত্র ভাই একজন ইঞ্জিনিয়ার।
নজিরবিহীন রেকর্ড
খাইবার গার্লস মেডিক্যাল কলেজের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীর অর্জন করা সর্বোচ্চ সংখ্যক স্বর্ণপদক। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি নিজ হাতে কান্দিলকে এই মেডেলগুলো পরিয়ে দেন। কান্দিল ছাড়াও মুকাদ্দাস নামের এক শিক্ষার্থী ১০টি এবং সাবিহ ৭টি স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসার ঝড়
কান্দিলের এই সাফল্যের ভিডিও এবং ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। নেটিজেনরা বলছেন, কান্দিল প্রমাণ করেছেন যে সুযোগ এবং পরিশ্রম থাকলে আর্থিক সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা হতে পারে না। তাকে পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বিশেষ অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নেশন টুডে – সত্যের সন্ধানে সর্বক্ষণ
মন্তব্য করুন