ব্রেকিং নিউজ
অনলাইন নিউজ ডেস্ক
৫ জুন ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

দীপিকার মানসিক স্বাস্থ্য আন্দোলনের অজানা গল্প শোনালেন প্রকাশ পাড়ুকোন

ছবি: সংগৃহীত

২০১৫ সালে বলিউডের শীর্ষ আসনে থেকেও দেশের আপামর মানুষের সামনে টেলিভিশনের পর্দায় ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতার লড়াই নিয়ে প্রথমবার মুখ খুলেছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন। ভারতীয় সমাজে যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলাটাই এক অলিখিত সামাজিক ‘ট্যাবু’ বা লজ্জা, সেখানে দীপিকার এই স্বীকারোক্তি ছিল এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। কিন্তু দীপিকার এই লড়াই এবং তাঁর সংস্থা ‘দ্য লাইভ লাভ লাফ ফাউন্ডেশন’ (TLLLF) প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে ছিল এক গভীর ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অজানা গল্পই প্রকাশ্যে এনেছেন তাঁর বাবা তথা ব্যাডমিন্টন কিংবদন্তি প্রকাশ পাড়ুকোন।

এক সাক্ষাৎকারে কন্যার সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, দীপিকা যখন নিজের ডিপ্রেশনের কথা জনসমক্ষে আনার সিদ্ধান্ত নেন, তখন বাবা-মা হিসেবে তাঁরা সম্পূর্ণ সমর্থন করেছিলেন। ব্যাডমিন্টন তারকা বলেন, ‘দীপিকা যখন প্রথমবার নিজের অভিজ্ঞতার কথা সকলকে জানায়, তার ঠিক কয়েক মাস পরেই ওর এক অত্যন্ত কাছের বন্ধু মারা যায়। সেই অকাল মৃত্যুই দীপিকাকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ও বুঝতে পেরেছিল যে এই বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো কতটা জরুরি। তখনই ও এই ফাউন্ডেশনটি নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘দীপিকা আমাদের কাছে এসে বলেছিল, সাধারণত সেলিব্রিটিরা নারী উন্নয়ন বা শিশু শিক্ষার মতো সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করেন, কিন্তু আমি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে চাই। আমি ওকে বলেছিলাম, তুমি যা করতে চাও নির্দ্বিধায় করো। এতে লজ্জা বা দ্বিধার কিছু নেই। প্রায় ১০ বছর হয়ে গেল এই সংস্থার এবং এটি সমাজে সচেতনতা তৈরিতে এক বিশাল পরিবর্তন এনেছে।’

দীপিকার ফাউন্ডেশন প্রসঙ্গে নানা কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, আপনার শরীরে কোনও রোগ হলে যেমন আপনি চিকিৎসকের কাছে যান, ঠিক তেমনি মন খারাপ, অতিরিক্ত উদ্বেগ বা ডিপ্রেশন হলে সাইকিয়াট্রিস্ট বা থেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়াটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। মানসিক রোগ অবশ্যই নিরাময়যোগ্য। যদি একদম প্রাথমিক স্তরে এটি সনাক্ত করা যায়, তবে কোনও ওষুধ ছাড়াই শুধু থেরাপি বা কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সুস্থ হওয়া সম্ভব।

এই সময় দাঁড়িয়ে দীপিকার এই উদ্যোগ প্রশংসিত হলেও শুরুর পথটা মোটেও সহজ ছিল না। গত বছর এক সাক্ষাৎকারে দীপিকা নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি যখন প্রথমবার ডিপ্রেশন নিয়ে কথা বলেন, তখন অনেকেই এটিকে সিনেমার প্রচার বা ‘পাব্লিসিটি স্টান্ট’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এমনকী কোনও বড় ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি তাঁকে টাকা দিয়ে এই প্রচার করাচ্ছে কি না— এমন কুরুচিকর প্রশ্নও তোলা হয়েছিল।

সমস্ত সংশয় ও সমালোচনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দীপিকার সংস্থা বিগত এক দশক ধরে নিরলস ভাবে কাজ করে গিয়েছেন। ভারতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে দীপিকা বলেছিলেন, ‘আমি চাই ভারতের প্রতিটি গলিতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরি হোক— ঠিক যে ভাবে এ দেশের অলিতে-গলিতে মানুষ পাড়ায় পাড়ায় ক্রিকেট খেলে।’

সূত্র: এই সময় অনলাইন

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১

তামাক নিয়ন্ত্রণে কোম্পানির হস্তক্ষেপ বড় বাধা

২

রায় তো তারেক রহমানই দেবেন: আদালতে আখতারুজ্জামান

৩

মোটরসাইকেলসহ গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

৪

ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৬০৮ জন

৫

আক্কেলপুরে রেস্তোরাঁর টেবিল থেকে ৫ লক্ষ টাকা গায়েব, জিঙ্গাসাবাদে ৪ জন

৬

অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেভাবে

৭

সাইবার অপরাধ ঠেকাতে ৪৫৯২ জন নিয়ে পুলিশের বিশেষ ইউনিট গঠন

৮

ফাইভারে বিটোপিয়ার বিরুদ্ধে অ্যাকাউন্ট জালিয়াতির অভিযোগ!

৯

নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ, দুদক তদন্তের দাবি

১০

ফেনী সফরে প্রধানমন্ত্রী, থাকছে যেসব কর্মসূচি

১১

মাঝ আকাশে দুই পাইলটের মারামারি, দুই মিনিটে বিমান নামল ১৬ হাজার ফুট

১২

‘কার্ড দেব, চাকরি দেব, বিনিময়ে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে’

১৩

ক্লাস থ্রিতেই প্রথম প্রেমের চিঠি পেয়েছিলেন প্রভা

১৪

অক্টোবর মাসের ডিজেল-পেট্রোল-অকটেনের দাম ঘোষণা

১৫

কম খরচে পোকা দমনে কালাইয়ে কৃষকদের পরামর্শ

১৬

‎নোবিপ্রবিতে এনএসটিইউ সাইন-এর ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

১৭

সাংবাদিক তৌহিদুলের ওপর হামলা: কালাইয়ে মানববন্ধন, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

১৮

রাজধানী থেকে সাবেক এমপি গ্রেপ্তার

১৯

যশোরে অনলাইন প্রতারক চক্রের ৪ সদস্য আটক

২০