
প্রতিবেদন: লিটন আফরোজ
রাজধানীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ঈদের ছুটিকালীন সময়ে রাজধানীতে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা, নাশকতা কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটেনি।
বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ঢাকা গড়তে বদ্ধপরিকর ডিএমপি
ডিএমপি কমিশনার জানান, গত ১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৬৫৮ জন চাঁদাবাজ, ৯৭১ জন ছিনতাইকারী, ডাকাত ও সন্ত্রাসী এবং ১ হাজার ২১৫ জন মাদক কারবারিসহ মোট ২ হাজার ৮৪৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৭৪৪ কেজি গাঁজা, ১ লাখ ৭৯ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪০৫ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ২৮১ বোতল ফেন্সিডিল, ২৯ গ্রাম আইসসহ বিভিন্ন মাদক। এছাড়া ৬টি পিস্তল, ২১ রাউন্ড গুলি, ৪টি ম্যাগাজিন, ১১টি ককটেল ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ৬ জন চীনা নাগরিকসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে ৫২৩টি মোবাইল ফোন, ২৯৩টি সিমকার্ড এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহন উদ্ধার করা হয়।
ডিএমপির ট্রাফিক কার্যক্রম সম্পর্কে কমিশনার বলেন, মে মাসে সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩৮ হাজার ২৮৪টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৭২টি মামলা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ট্রাফিক এনফোর্সমেন্টের মাধ্যমে।
এ খাতে ৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
ঈদের ছুটিতে প্রায় জনশূন্য রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্ধিত টহল, চেকপোস্ট, বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সিসিটিভি মনিটরিং জোরদার করা হয় বলে জানান তিনি। এর ফলে সাত দিনের ছুটিতে রাজধানীতে কোনো ডাকাতি বা বড় ধরনের চাঞ্চল্যকর অপরাধ সংঘটিত হয়নি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সাম্প্রতিক আলোচিত কয়েকটি মামলার অগ্রগতির তথ্যও তুলে ধরা হয়। পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মুগদায় সৌদি প্রবাসী মোকাররম হত্যার পর মরদেহ খণ্ডিত করার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে সিটিটিসি।
এছাড়া যাত্রাবাড়ীতে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় তিনজন, ডেমরার সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় চারজন, জাল টাকা তৈরির চক্রের তিন সদস্য, মোহাম্মদপুরের আলোচিত ছিনতাই মামলায় দুইজন এবং আদাবরের অপহরণ মামলায় নয়জনকে গ্রেফতারের তথ্য জানানো হয়।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, দক্ষিণখানে গার্মেন্টস কাপড় চুরির ঘটনায় প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধারসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বংশাল, লালবাগ, চকবাজার ও কাফরুলের কয়েকটি আলোচিত হত্যা, অপহরণ ও চুরির মামলারও রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে।
শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বদা বদ্ধপরিকর।”
প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
লি/আ/নিউজ
মন্তব্য করুন