রাজবাড়ীতে স্কুল অনুষ্ঠানে ‘মাদার তেরেসা’ সাজে শিক্ষার্থী: অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজবাড়ী
রাজবাড়ীর একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্প্রতি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্ক ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানের কিছু স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।
মূল ঘটনার সূত্রপাত
অনুষ্ঠানে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্ব মাদার তেরেসা’র আদলে শাড়ি পরানো হয় এবং তাদের হাতে খ্রিস্টান ধর্মের প্রতীক ‘ক্রস’ সদৃশ উপকরণ দেওয়া হয়। এই বিষয়টি নজরে আসার পরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সাধারণ অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক মহল।
অভিভাবকদের অভিযোগ ও উদ্বেগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, কোমলমতি শিশুদের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় আবহ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। অভিভাবকদের প্রধান প্রশ্নগুলো হলো:
সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা: মুসলিমপ্রধান দেশের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী?
মানসিক প্রভাব: শিশুদের একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের প্রতি আবেগপ্রবণ করে তোলার কোনো প্রচ্ছন্ন চেষ্টা কি এটি?
কর্তৃপক্ষের ভূমিকা: স্কুল কর্তৃপক্ষ কেন এই ধরনের বিতর্কিত প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশের ধর্মীয় বাস্তবতাকে বিবেচনায় নেয়নি?
"শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো বিশেষ ধর্মের প্রতীক বা ব্যক্তিত্বকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে স্থানীয় ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধকে শ্রদ্ধা জানানো উচিত। কর্তৃপক্ষের এই উদাসীনতা মেনে নেওয়া যায় না।" — নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় অভিভাবক।
বিতর্কের নেপথ্যে মাদার তেরেসা
মানবসবোর জন্য শান্তিতে নোবেল জয়ী হলেও মাদার তেরেসাকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে রয়েছে নানা বিতর্ক। বিশেষ করে তার সেবার মান, চিকিৎসার পদ্ধতি এবং ধর্মীয় প্রচারের উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন সময় সমালোচনা হয়েছে। এই ঐতিহাসিক বিতর্কগুলোই অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যান্য দৃষ্টিভঙ্গি
তবে ভিন্ন একটি অংশ মনে করছেন, এটি কেবলই একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা হতে পারে। তাদের মতে, কোনো মানবিক ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরার অর্থ এই নয় যে সেটি ধর্মীয় উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় সচেতন মহল এবং অভিভাবকরা জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দাবি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে যেন ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং স্থানীয় মূল্যবোধের প্রতি পূর্ণ নজর রাখা হয়।
নেশন টুডে নিউজ | বস্তুনিষ্ঠ সংবাদে আমরা আপসহীন।