পাহাড়ের বুকে বজ্রকণ্ঠ: ‘আমরা দালাল নই, স্বাস্থ্যব্যবস্থার ফ্রন্টলাইন ইন্টেলেকচুয়াল ফোর্স’
নিজস্ব প্রতিবেদক | আলীকদম-লামা
১১ মে ২০২৬
পাহাড়ের শান্ত জনপদ আজ প্রকম্পিত প্রতিবাদের উত্তাপে। "মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা কোনো করুণা নয়, সাংবিধানিক অধিকার ও পেশাগত মর্যাদা চায়"—এই স্লোগানকে সামনে রেখে অপপ্রচার ও পেশাগত অবমাননার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে লামা-আলীকদমের ফারিয়া (মেডিকেল প্রমোশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন) সমাজ।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় উপজেলা পরিষদের সামনের প্রধান সড়কে আয়োজিত এক বিশাল প্রতিবাদী মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের ‘দালাল’ আখ্যা দেওয়া শুধু মিথ্যাচারই নয়, বরং এক ধরনের ‘পেশাগত সন্ত্রাস’।
বক্তব্যের মূল সুর: "আমরা বিজ্ঞানের দূত"
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
"যারা চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিকতম তথ্য চিকিৎসকদের দ্বারে পৌঁছে দেয়, যারা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির গবেষণা ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের নিরব সৈনিক— তাদের হেয় করা মানে দেশের স্বাস্থ্য কাঠামোকে দুর্বল করা। আমরা কোনো করুণা চাই না, আমরা আমাদের প্রাপ্য সম্মান ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ চাই।"
আইনি ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি
কর্মসূচিতে এক সিনিয়র আইনবিদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, কোনো সুনির্দিষ্ট পেশাজীবী গোষ্ঠীকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এটি রাষ্ট্রীয় পেশাগত কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করার নামান্তর।
মানববন্ধন থেকে আসা প্রধান দাবিগুলো:
অপপ্রচার বন্ধ: মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
নিরাপদ কর্মস্থল: পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সকল প্রকার নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে হবে।
মর্যাদার স্বীকৃতি: তাদের ‘ফ্রন্টলাইন ইন্টেলেকচুয়াল ফোর্স’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান।
কঠোর হুঁশিয়ারি
লামা-আলীকদম মডেল ফারিয়ার নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এই অপপ্রচার ও অপমানজনক আচরণ বন্ধ না হয়, তবে পাহাড় থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন সারাদেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়বে। আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে বলে তারা ঘোষণা দেন।
“অপবাদ নয়, প্রাপ্য সম্মান চাই; হয়রানি নয়, নিরাপদ কর্মপরিবেশ চাই”—এই দৃপ্ত অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আজকের এই প্রতিবাদী সমাবেশ।